কলকাতার নতুন শেরিফ হচ্ছেন সাহিত্যিক শংকর

1,269 total views, 4 views today

নতুন শেরিফ পেতে চলেছে তিলোত্তমা। কলকাতা হাইকোর্টের মনোনয়ন অনুযায়ী আগামী সোমবার কলকাতা শহরের নতুন শেরিফের দায়িত্ব নেবেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ‘শংকর’ ওরফে মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। এর আগে চিকিৎসক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় কলকাতার শেরিফের পদে ছিলেন।

ইংল্যান্ডের মতো তৎকালীন ‘কলিকাতা’তেও ১৭৭৪ সালের ২৬শে মার্চ শেরিফের পদটি চালু করেছিলেন ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় জর্জ। মহানগরের প্রথম শেরিফ ছিলেন জেমস ম্যাক্রাবে। তাঁকে নিয়োগ করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রথম প্রধান বিচারপতি স্যার এলিজা ইম্পে। রাজা দিগম্বর মিত্র ছিলেন প্রথম বাঙালি শেরিফ (১৮৭৪)। শ্রীমতি সুচিত্রা মিত্র ছিলেন কোলকাতার প্রথম মহিলা শেরিফ(২০০১)। শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের চিকিৎসক মহেন্দ্রলাল সরকার, ছাড়াও সাম্প্রতিক অতীতে অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক, বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব চুনী গোস্বামী , সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সহ সমাজের বহু বিশিষ্ট মানুষ মহানগরীর শেরিফের পদ অলঙ্কৃত করেছেন।

ব্রিটিশ শাসনকাল থেকেই কলকাতার শেরিফ পদটি রয়েছে। পদমর্যাদায় মেয়রের পরবর্তী পদটিই শেরিফ। ভারতের একমাত্র মুম্বই ও কলকাতায় এই ঐতিহ্যবাহী পদটি আছে। শেরিফের কলকাতা হাইকোর্টে একটি পৃথক অফিস থাকে। শেরিফ বিভিন্ন শহর সংক্রান্ত কার্যাবলী এবং সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এবং সরকারের বিদেশী অতিথিদের অভ্যর্থনার দায়িত্বে থাকেন।

১৯৩৩-এর ৭ই ডিসেম্বর অধুনা বাংলাদেশের যশোহরের বনগাঁতে জন্ম শংকরের। কৈশোরে পিতৃহারা শংকরের ছোটবেলা কেটেছে হাওড়ায়। পড়াশোনা হাওড়া জেলা স্কুল ও পরবর্তী কালে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে। প্রথম জীবনে কখনও শিক্ষকতা, কখনও হাইকোর্ট পাড়ায় কাজ করলেও লেখালেখির প্রতি গোড়া থেকেই আগ্রহ ছিল তাঁর।

কলকাতা হাইকোর্টের শেষ ইংরেজ ব্যারিস্টার নোয়েল ফ্রেডরিক বারওয়েলের অধীনেও কাজ করেছেন শংকর। বারওয়েলের মৃত্যুর পরে কলম আঁকড়ে ধরেন তিনি। আপামর পাঠককূলের পরিচয় হয় লেখক ‘শংকর’ এর সাথে। ‘চৌরঙ্গী’, ‘জনঅরণ্য’, ‘অচেনা অজানা বিবেকানন্দ’, ‘সীমাবদ্ধ’ ‘কত অজানারে’ সমেত অসংখ্য জনপ্রিয় বইয়ের স্রষ্টা শংকর।

ছবি ও তথ্য : ইন্টারনেট


Reach The Perspective