আলোর দিশা নিয়ে স্টার জলসায় আসছে ‘সাঁঝের বাতি’

5,043 total views, 4 views today

ভালোবাসা যদি সত্যি হয় তাহলে শত ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যেও ঠিক সে তার পথ খুঁজে নেয়। কারোর অন্ধকারময় জীবনে আলোর পথ দেখায় ভালোবাসা। এরকমই এক ভালোবাসার গল্প নিয়ে স্টার জলসায় শুরু হচ্ছে নতুন ধারাবাহিক ‘সাঁঝের বাতি’। প্রযোজনায় অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেনমেন্ট এবং পরিচালনা করেছেন লক্ষণ ঘোষ। সঠিক সঙ্গী ও ভালোবাসা সঙ্গে থাকলে হাজারো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কোন মানুষ ঠিক তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে। যেমন এই ধারাবাহিকে দেখা যাবে আর্যমান মল্লিকের অন্ধকারময় জীবন থেকে আলোকময় জীবনে উত্তরণের গল্প। এখানে আলোর পথযাত্রী আর্যমানের আলোর পথের দিশারী চারু।

চারু ও আর্যমান এবং ঘোষ ও মল্লিক পরিবারের বিভিন্ন ঘটনাবলী এই ধারাবাহিকের মূল প্রেক্ষাপট। চারু ঘোষ গ্রামের মেয়ে এবং গ্রামেই বসবাস। চারু ছাড়াও তার পরিবারে আছে বাবা, সৎ মা এবং সৎ বোন। সারা গ্রামের মানুষ চারুকে পয়মন্ত মনে করলেও বাড়িতে তার কপালে জোটে সৎ মায়ের গঞ্জনা, অত্যাচার। চারুর ভূমিকায় আছে মিষ্টি মেয়ে দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায়। এর আগে ‘কাজল লতা’ এবং ‘টেক্কা রাজা বাদশা’ ধারাবাহিকেও দেখা গেছে দেবচন্দ্রিমাকে। এটি তার তৃতীয় ধারাবাহিক। ধারাবাহিকে যেহেতু চারুদের দুধের ব্যবসা তাই চারুর হাতে ছিল বড় একটি দুধ রাখার পাত্র। সম্পূর্ণ চারুর বেশেই দেখা মিলল দেবচন্দ্রিমার। বি বি এ সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্রী দেবচন্দ্রিমা জানালেন, “চরিত্রটা আমার কাছে বেশ অন্যরকম। যেটা করতে গিয়ে আমার একটু অসুবিধা হচ্ছে কিন্তু সেটা আমি মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আসলে চরিত্রটা করার আগে একটু ফাঁকিবাজি করেছিলাম। আর ফাঁকিবাজি করলে তার ফল তো ভুগতেই হয়। তবে বেনী’দির কাছে আমি ওয়ার্কশপ করেছিলাম সেটা খুব হেল্প করেছে আর আমাদের ডিরেক্টরও যথেষ্ট সাপোর্ট করেছেন। ধারাবাহিকে আমার পরিবারের দুধের ব্যবসা হলেও নিজে দুধের থেকে বেশি মিষ্টি খেতেই পছন্দ করি। মিষ্টির একটা বড় অংশ এই ধারাবাহিকে আছে, তাই বেশ ভালোও লাগছে।”

বেশ কয়েকদিন পর আবার একটি খল চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্রকে। ‘সাঁঝের বাতি’তে কাঞ্চনা ঝুম্পা ঘোষের ভূমিকায়। ঝুম্পা ঘোষ চারুর সৎ মা। যিনি সারাক্ষণ বিভিন্ন ফন্দি এঁটে চারুকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করেন। “বাংলা মেগাসিরিয়ালে অনেক নেগেটিভ চরিত্র আছে। অনেক অভিনেত্রীরা খুব ভালো অভিনয়ও করছেন কিন্তু আমি খুব শিওর হয়ে বলতে পারি এই রকম একটা নেগেটিভ চরিত্র অনেকদিন বাদে এসেছে। এটা এমনই একটা চরিত্র যেটার সাথে দর্শকদের রাগ হওয়ার পাশাপাশি হাসিও পাবে। ঝুম্পা ঘোষ আসলে একজন খুব লোভী মহিলা এবং তার সাজপোশাকও খুব অদ্ভুত। এই চরিত্রটা করতে গিয়ে আমি একটুও বোর ফিল করিনি। দর্শকরা এই চরিত্রটা দেখে অনেকটা মজাও পাবেন।” বললেন কাঞ্চনা।

এতো গেল ঘোষ পরিবারের গল্প। এরপর আছে মল্লিক পরিবারের গল্প। মল্লিক পরিবার এমন একটা পরিবার যেখানে নারীদের কর্তৃত্বই বেশী। এহেন পরিবারের সর্বময় কর্ত্রী মল্লিকা মল্লিক। মল্লিক পরিবারের পারিবারিক মিষ্টির ব্যবসার যথেষ্ট সুখ্যাতি। স্বামী, দুই ছেলে, বৃদ্ধা শাশুড়ি, দেওর – জা নিয়ে ভরা সংসার মল্লিকার। মল্লিকা একাধারে সংসারও সামলায় এবং ব্যবসাও দেখে। অসম্ভব ব্যক্তিত্বময়ী চরিত্র মল্লিকা মল্লিক। তার বড় ছেলে সানি একটি দুর্ঘটনায় তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে তাও মল্লিকা তার ছেলেকে নিয়ে যথেষ্ট গর্বিত। মল্লিকা প্রতিজ্ঞা করে ছেলের জন্য ‘ঘর আলো করা বউ’ আনবে। ঘটনাচক্রে তাঁর বড় ছেলে আর্যমান তথা সানির সাথে আলাপ হয় চারুর। মল্লিকা মল্লিকের চরিত্রে থাকছেন জুন মালিয়া। তিনি জানালেন, “আমার চরিত্রটা অসম্ভব পজেটিভ একটা চরিত্র। এর আগে আমি অনেক নেগেটিভ চরিত্র করেছি। কিন্তু এই চরিত্রটা করতে আমার বেশ ভালো লাগছে। মল্লিকার চরিত্রে অনেক শেডস রয়েছে, সব মিলিয়ে বেশ অন্যরকম। বহুদিন আগে ‘স্টার জলসা’রই একটি ধারাবাহিক ‘চারুলতা’তে আমি ছেলের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলাম। সেটাও একটা পজিটিভ চরিত্র ছিল এবং দর্শকরা খুব ভালোবেসেছিলেন চরিত্রটাকে। আশা করব মল্লিকাও দর্শকদেরা যথেষ্ট ভালোবাসা পাবে।”

আর একটি কেন্দ্রীয় চরিত্র আর্যমানের ভূমিকায় অভিনয় করছেন রেজওয়ান রাব্বানি শেখ। জন্মের পর থেকে দৃষ্টিশক্তি থাকলেও, একটি দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারায় আর্যমান। নিজের অভিনীত চরিত্র নিয়ে রেজয়ান বললেন, “আজকের দিনে দাঁড়িয়ে কোন মানুষের যদি হঠাৎ করে দৃষ্টিশক্তি চলে যায় তাহলে সেটা তার কাছে যথেষ্ট কষ্টকর। তাই এই চরিত্রটাও আমার বেশ চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে। চারদিকের রঙিন পৃথিবীটা এক ঝটকায় সাদা বা কালো হয়ে গেলে আমাদের সকলের কাছেই সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি এই চরিত্রটাকে ফুটিয়ে তুলতে।”

ভানু ঘোষ তথা চারুর বাবার ভূমিকায় অভিনয় করছেন রতন সরখেল। মল্লিকার শাশুড়ির ভূমিকার অনুরাধা রায়, মল্লিকার ছোট ছেলে অংশুমানের ভূমিকায় সৌম্যদীপ সিংহ রায় এবং চারুর সৎ বোন চুমকির ভূমিকায় দীপান্বিতা রক্ষিত। চারু কি পারবে আঁধারে আলো জ্বালাতে? জানতে হলে অবশ্যই চোখ রাখতে হবে স্টার জলসার পর্দায় সোম থেকে রবি সন্ধে ছ’টায়।

Reach The Perspective