সিনেমা পর্যালোচনা: সপরিবারে বারবার দেখার ছবি ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’

20,910 total views, 2 views today

এবছর গ্রীষ্মের ছুটিতে আমরা সোনাদা, আবির এবং ঝিনুকের হাত ধরে আবার সেই ছোটবেলার দিনগুলোতে ফিরে যেতে পারি। ঠিক যেমন গত বছর আমরা ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’ গিয়ে খোঁজ পেয়েছিলাম শাহ সুজার বিশাল রত্নভাণ্ডার এর যা কিনা আমাদের এই বাংলাতেই গচ্ছিত ছিল। হ্যাঁ; গুপ্তধন সিরিজের একটি ফ্রাঞ্চাইজ ফিল্ম হল এই ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’। সোনাদা, আবির এবং ঝিনুকের এই দুর্গেশ গড় অভিযানে অবশ্যই একটা বড় অংশ জুড়ে আছে বাঙালির সব থেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। দুর্গা পুজোর সাথে ইতিহাস রহস্য এবং ধাঁধার যদি একটা অসামান্য মিশেল তৈরি করা যায় তাহলে তা আপামর বাঙালির কাছে সবসময়ই গ্রহণযোগ্য। এই এক্স-ফ্যাক্টরগুলোকে কাজে লাগিয়েই পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায় তৈরি করেছেন তার এই ছবি।

এই ছবিতে ভীষণভাবে দেখা যায় বাঙালি বনেদিয়ানা, আভিজাত্য। ছবির একটা বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে বাংলার দুর্গা পুজোর ইতিহাস। শুধু পুজো নয়, পুজোর বিভিন্ন আচার উপাচারের ইতিহাসও খেলার ছলে জানিয়েছেন ধ্রুব। আমরা অনেকেই হয়তো ছোটবেলায় শুধুমাত্র নম্বর পাওয়ার জন্য ইতিহাস পড়তাম, ভালোবাসতাম না। কিন্তু ইতিহাস কে জানতে হলে তাকে ভালবেসে জানা উচিত আর এই ইতিহাসের ওপর ভালোবাসাটাই তৈরি করেছেন পরিচালক তার ছবির মাধ্যমে। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ এবং তৎকালীন বাংলার ইতিহাস খুব সুন্দর ভাবে এই ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে। সোনাদা আবির এবং ঝিনুক এবার পুজোর ছুটিতে গুপ্তধনের খোঁজে দুর্গেশগড়ে। বনপুকুরিয়া গ্রামে দুর্গাগতি দেব রায়ের বিশাল প্রাসাদের দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে সোনাদা আবির ঝিনুক ত্রয়ীর বিশাল রত্নভাণ্ডার এর রহস্য অভিযান চলতে থাকে। এই ছবিতেও খুব সুন্দর ভাবে রহস্যের সমাধানের জন্য ধাঁধা এবং ছড়া’র ব্যবহার করা হয়েছে।

সোনাদা প্রকৃত গোয়েন্দা নন, অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করা ইতিহাসের একজন অধ্যাপক। যিনি তাঁর মগজাস্ত্র দিয়ে বিভিন্ন রহস্যের সমাধান করে থাকেন। সোনাদার চরিত্রে আবির ভীষণ ভাবে জীবন্ত হয়ে ওঠে। টানটান রহস্যের মধ্যে আবির এবং ঝিনুকের মিষ্টি প্রেম সিনেমায় একটা অন্য মাত্রা যোগ করে। ইশার অভিনয় নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। একের পর এক অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের জাত চিনিয়েছেন ইশা। আবির চট্টোপাধ্যায়ের পাশে অর্জুন প্রচন্ড সাবলীল। খরাজ মুখোপাধ্যায় বেশ ভালো। যৌথ পরিবারের গল্পের আঙ্গিকে বড় ছেলে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, এনআরআই মেজো ছেলে কৌশিক সেন, পিসীমার চরিত্রে লিলি চক্রবর্তী অনবদ্য। ছোট্ট সদস্য কুঁচোর চরিত্রে বিহান খুব ভালো।

ছবির সংগীত পরিচালনা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরে পন্ডিত বিক্রম ঘোষ অনবদ্য। নির্মাল্য, ইমন, সোমচ্ছন্দা আর মনোময়কে অসাধারণ ব্যবহার করেছেন বিক্রম। প্রাচীন ইতিহাস ব্যক্ত করার জন্য ছবিতে ব্যবহার করা অ্যানিমেশনের কাজ নজর কাড়ে। ক্যামেরায় অভাবনীয় কাজ করেছেন সৌমিক হালদার। শুভেন্দু দাস মুন্সি ছবির রেশ ধরে রেখেছেন তার লেখা সব গানে। গানের মাধ্যমে রহস্যের জাল কাটিয়ে সোনাদা এন্ড কোম্পানি গুপ্তধন কিভাবে উদ্ধার করে সেটা জানার জন্য অবশ্যই প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটা দেখা উচিত। বাঙালির ভালো লাগবেই এই ছবি।

Reach The Perspective