সিনেমা পর্যালোচনা: প্রতিশোধের শিল্পেই বাজিমাত সৃজিতের ‘ভিঞ্চি দা’র

30,165 total views, 4 views today

লাফিয়ে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে বাউন্ডারি পার করে চলে যেতে চাওয়া বলকে মুঠোবন্দি করে শুধুমাত্র ছ’রান বাঁচান নি, সঙ্গে ম্যাচটা পকেটে পুরে আবার সেরার দৌড়ে নিজেকে প্রথম পঙক্তিতে তুলে আনলেন তিনি। হ্যাঁ! তিনি সৃজিত মুখার্জি আর কথা হচ্ছে তার নতুন ছবি ‘ভিঞ্চি দা’ নিয়ে। ‘বাইশে শ্রাবণ’ আর ‘চতুষ্কোণ’-এর পর মূলতঃ নিজের পছন্দের ধারার থ্রিলার নিয়ে ফিরলেন তিনি এবং এমন একটা সময় যখন সোশ্যাল মিডিয়ার লাখো ট্রোল থেকে শুরু করে বেশ কিছু নামজাদা সিনে নিন্দুক পর্যন্ত বলতে শুরু করেছেন যে সেই সৃজিত কোথায় যে ‘বাইশে শ্রাবণ’ বানিয়েছিল? সৃজিত ফিরলেন ঋজু ঢঙে। সৃজিত ফিরলেন ভিঞ্চির রঙে।

কিছু ‘সিজিদ্দা’পন্থীদের হয়তো ভালো লাগবেনা শুনতে কিন্তু মোদ্দা কথা হল নিন্দুকদের উত্তর যেন অনির্বাণের মুখ দিয়ে দিয়েছেন পরিচালক; “বেশি আলবাল বকলে কানের গোড়ায় একটা থাবড়া মারব”।

রুদ্রনীল-এর অসাধারণ এক গল্প কে ভিত্তি করে পরিচালকের সৃজনশীল প্রয়াস প্রশংসনীয়। ছবির গল্প মূলত দুজন মানুষকে ঘিরে, একজন প্রস্থেটিক মেকআপ আর্টিস্ট ভিঞ্চি দা যে আসলে দ্য ভিঞ্চির ফ্যানবয়। আরেকজন সিরিয়াল ল’য়্যার আদি বোস।

এই ছবিতে আছে মেকআপ আর্টিস্ট এর মতো নেপথ্য নায়কের গল্প। এই ছবি সেই টালিগঞ্জের গল্প শোনায় যেখানে শুধু প্রতিভা থাকলেই হয় না থাকতে হয় লোককে তেলিয়ে চলার মানসিকতা, তাহলেই সে বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সফল বলে পরিগণিত।

এই ছবিতে জিতে গেছে শিল্প। এই ছবি নায়ক নায়িকার নয়, অভিনেতা অভিনেত্রীর। এ ছবি বিদেশী লোকেশনের নয়, রক্ত-মাংসের মানুষের।

প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই একটা প্রতিহিংসা স্পৃহা কাজ করে। কেউ সেটা আদি বোসের মত বিকৃত প্রয়োগ করেন কেউ আবার নিস্পৃহ থাকেন। অভিনয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত রুদ্রনীলের জীবনের এখনও পর্যন্ত সেরা পারফরম্যান্স এটাই। ভাবলে অবাক হতে হয় যে, এই মানুষটাকে হলুদ জামা লাল প্যান্ট পরিয়ে প্রায় জোকার সাজিয়ে জঘন্য সংলাপ দিয়ে ভাঁড়ামো করানো হয় এই ইন্ডাস্ট্রিতেই। এই সাধুবাদ অবশ্যই পরিচালকের প্রাপ্য একজন অভিনেতা কে এই ভাবে ব্যবহার করার জন্য। আর আদি বোসের ভূমিকায় ঋত্বিক অসাধারণ কোন প্রশংসাই তার জন্য যথেষ্ট নয়। এই মানুষটা প্রতি ছবিতে নিজেকে ছাপিয়ে যাচ্ছেন আর আদায় করছেন সম্ভ্রম। আর আছেন ইন্সপেক্টর পোদ্দার মানে অনির্বাণ ভট্টাচার্য। চোখা চোখা সংলাপ আর শরীরি অভিব্যক্তিতে অনবদ্য অনির্বাণ। সৃজিত ‘উমা’র পরে আবার অনবদ্য ব্যবহার করলেন তাকে। জয়া চরিত্রে সোহিনী খুব ভাল, পাশের বাড়ির মেয়ের মত সরল ও মিষ্টি। ক্যামিও চরিত্রে ঋদ্ধি দারুন, তিনি প্রতিনিয়ত প্রমাণ করছেন আগামী দিনে ভারতীয় ছবির অপরিহার্য মুখ হয়েই থাকবেন। রাণা বসু ঠাকুর ‘মহালয়া’র পরে আবার নজর কাড়লেন। যদিও এবার অল্প সময়ের উপস্থিতিতে। অনুপম রায়ের গান ভালো লাগে। নোবেলের গান বেশ দরাজ।

এই ছবিতে মেকআপ একটা অন্য মাত্রা যোগ করে। শিল্পী সোমনাথ কুন্ডুর জীবনের একটা ছোট্ট ঘটনা নির্ভর এই ছবিতে শিল্পীর কাজ অসাধারণ সর্বোপরি খুব ভালো একটা থ্রিলার দেখার জন্য দেখতেই হবে ‘ভিঞ্চি দা’।

1 thought on “সিনেমা পর্যালোচনা: প্রতিশোধের শিল্পেই বাজিমাত সৃজিতের ‘ভিঞ্চি দা’র

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Reach The Perspective